টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসে সবচেয়ে সাধারণ চার্ট প্যাটার্ন | Deriv Blog

চার্ট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করা টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস করার সবচেয়ে সহজ উপায়। বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন ব্যবহার করে কীভাবে একটি মার্কেটের ভবিষ্যৎ মূল্য চলাচল পূর্বাভাস করা যায়, তা জানুন।

ডেরিভ ডেস্ক · 9 June 2022 · 5 মিনিট পড়া

Share

বিভিন্ন মার্কেটে দাম কীভাবে ওঠানামা করে তা বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে, টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসের পথিকৃৎরা আবিষ্কার করেছেন যে নির্দিষ্ট একটি প্যাটার্ন গঠনের পর দাম প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট দিকেই চলে। এই আবিষ্কারটি শিগগিরই একটি ট্রেডিং শাখায় পরিণত হয়েছে, যা বর্তমানে ট্রেডাররা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন।

টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসে আপনি অনেক ধরনের চার্ট প্যাটার্ন ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু সেগুলো সব একই যুক্তি অনুসরণ করে: সাপোর্ট ট্রেন্ড লাইন নিচে থাকে, আর রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ড লাইন ওপরে থাকে। সাধারণত সব প্যাটার্নকে ৩টি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

  • রিভার্সাল প্যাটার্ন
  • কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ন
  • বাইলেটারাল প্যাটার্ন

মূলত, প্রতিটি গ্রুপ ব্যবহার করা হয় পূর্বাভাস দিতে যে প্যাটার্ন শুরু হওয়ার আগে যেমন দিকেই দাম চলছিল, তা সেভাবেই চলতে থাকবে কি না। চলুন দেখি, প্রতিটি কীভাবে কাজ করে।

রিভার্সাল চার্ট প্যাটার্ন 

রিভার্সাল চার্ট প্যাটার্ন সাধারণত ইঙ্গিত করে যে ট্রেন্ডটির দিক পরিবর্তন হতে চলেছে।

সবচেয়ে সাধারণ কিছু রিভার্সাল চার্ট প্যাটার্ন হলো:

  • ডাবল টপ এবং ডাবল বটম

এই মূল্য প্যাটার্নগুলো ২টি পিক বা ২টি ড্রপ নিয়ে গঠিত, যেখানে দাম সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেলের মধ্যে দোলাচল করে এবং তারপর ব্রেকআউট করে, আগের ট্রেন্ডের বিপরীত দিকে চলে যায়।

Double Top and Double Bottom Chart Patterns on Deriv
  • হেড অ্যান্ড শোল্ডারস এবং ইনভার্স হেড অ্যান্ড শোল্ডারস

এই ২টি প্যাটার্ন ডাবল টপ এবং ডাবল বটমের সঙ্গে খুবই মিল, তবে এগুলো ৩টি মূল্য পিক বা ড্রপ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে মাঝেরটি সবচেয়ে বড়। তৃতীয়টির পর দাম সাধারণত ব্রেকআউট করে এবং আগের ট্রেন্ডের বিপরীত দিকেও চলতে থাকে।

Head and Shoulders Chart Patterns on Deriv

কন্টিনিউয়েশন চার্ট প্যাটার্ন

কন্টিনিউয়েশন চার্ট প্যাটার্ন সাধারণত ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেন্ডটি আগের দিকেই আবার চলতে শুরু করবে।

সবচেয়ে সাধারণ কিছু কন্টিনিউয়েশন চার্ট প্যাটার্ন হলো:

  • ফ্ল্যাগ

ফ্ল্যাগ চার্ট প্যাটার্ন একটি স্বতন্ত্র ফ্ল্যাগ 'পোল' নিয়ে গঠিত, যা আগের ট্রেন্ডকে নির্দেশ করে, এবং ২টি সমান্তরাল লাইন—সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স—যা আসন্ন মূল্য চলাচল ঊর্ধ্বমুখী (বুলিশ) বা নিম্নমুখী (বিয়ারিশ) হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়। একবার দাম এই দুই লাইনের কোনো একটির বাইরে চলে গেলে, তা সাধারণত আগের ট্রেন্ডের দিকই অনুসরণ করে।

Flag Chart Patterns on Deriv
  • পেনান্ট

পেনান্ট চার্ট প্যাটার্ন ফ্ল্যাগের সঙ্গে খুবই মিল। এটিতেও একটি সুস্পষ্ট 'পোল' থাকে, তবে এর সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ড লাইনগুলো মাঝখানে অনুভূমিকভাবে মিলিত হয়। দাম সাধারণত ব্রেকআউট করে, আগের ট্রেন্ডের দিক অনুসরণ করে।

Pennant Chart Patterns on Deriv
  • ওয়েজ

ওয়েজ চার্ট প্যাটার্ন পেনান্টের সঙ্গে খুবই মিল, তবে এর সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ড লাইনগুলো প্যাটার্নের একেবারে মাঝখানে মিলিত হয়ে অনুভূমিক আকার গঠন করার বদলে ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী হতে পারে। যেকোনো ক্ষেত্রেই, দাম আগের ট্রেন্ডের একই দিকেই চলার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

Wedge Chart Patterns on Deriv

বাইলেটারাল চার্ট প্যাটার্ন

বাইলেটারাল চার্ট প্যাটার্ন ট্রেন্ড উল্টো হবে নাকি চলতে থাকবে—এমন ক্ষেত্রে ৫০/৫০ সম্ভাবনা দেয়, যা ট্রেডারদের একসঙ্গে ২টি ট্রেড দেওয়ার চমৎকার সুযোগ তৈরি করে।

বাইলেটারাল প্যাটার্নের ৩টি ধরনই আগের বর্ণিত কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্নের মতো, তবে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে:

  • অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেলের রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ড লাইন কঠোরভাবে অনুভূমিক থাকে
  • ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেলের সাপোর্ট লাইন কঠোরভাবে অনুভূমিক থাকে
  • সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেলের একটি স্বতন্ত্র 'পোল' থাকে না, ফ্ল্যাগ প্যাটার্নের মতো নয়। সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেলের আগে যে দাম তৈরি হয়, তা সাধারণত ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
Triangle Chart Patterns on Deriv

চার্ট প্যাটার্ন ব্যবহার করে কীভাবে আপনার ট্রেডিং কৌশল উন্নত করবেন?

এই মৌলিক চার্ট প্যাটার্নগুলো কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে, পরবর্তী ধাপে দাম কোন দিকে যাবে তা আপনি আরও নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারবেন। পেশাদার ট্রেডাররা নানা ধরনের প্যাটার্ন ব্যবহার করেন, তবে আপনি আপনার প্রাইস চার্টে যে প্যাটার্নই খুঁজে পান না কেন, ট্রেডিং কৌশল একই থাকে। দাম রেজিস্ট্যান্স বা সাপোর্ট লাইনের বাইরে বেরিয়ে গেলেই, আপনি পূর্বাভাসকৃত দিকের ভিত্তিতে buy বা sell ট্রেড দেন।

তবে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই প্যাটার্নগুলো ভবিষ্যৎ বাজারমূল্যের চলাচল ইঙ্গিত করতে সাহায্য করলেও, এগুলো এখনও শুধু পূর্বাভাস এবং ১০০% নির্ভুলতা দেয় না। দাম লাইন ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে নতুন ট্রেন্ড না গড়েই অল্প সময় পরে আবার ফিরে এলে সবসময়ই একটি false breakout-এর সম্ভাবনা থাকে। 

তাই, বাস্তব অর্থ দিয়ে ট্রেড করার আগে আপনাকে অবশ্যই আপনার ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে এবং ঝুঁকিমুক্ত ডেমো অ্যাকাউন্টে অনুশীলন করতে হবে। আর যদি আপনি আপনার টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস দক্ষতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চান, তাহলে আমাদের পরবর্তী ব্লগ পোস্টে আমরা আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করা টুলগুলোর মাধ্যমে ট্রেডিং কৌশল আরও পরিশীলিত করার পদ্ধতি দেখাব।  

Join 3M+ global traders

Open an account in minutes and start trading the world's markets — forex, stocks, indices, and more.

টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসে সবচেয়ে সাধারণ চার্ট প্যাটার্ন | Deriv Blog