মূল্যায়নের তুলনায় কম দামে থাকা স্টক খুঁজে পাওয়ার 9টি অপরিহার্য পরামর্শ| Deriv Blog
মার্কেটে মূল্যায়নের তুলনায় কম দামে থাকা স্টক কীভাবে খুঁজে পাবেন সে সম্পর্কে 9টি পরামর্শ জানুন এবং তাদের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় ট্রেডিং দক্ষতা শিখুন।
ডেরিভ ডেস্ক · 8 January 2024 · 8 মিনিট পড়া

কল্পনা করুন, স্টকগুলোর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আগেই আপনি সেগুলো তুলে নিচ্ছেন — যেন কয়লার ভেতর থেকে হীরা খুঁজে পাচ্ছেন। মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের রত্নগুলো সেখানে আছে, আপনার মতো ট্রেডারদের দ্বারা আবিষ্কৃত হওয়ার অপেক্ষায়।
মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের শেয়ার সেই সব ট্রেডারের জন্য একটি আকর্ষণীয় ট্রেডিং সুযোগ, যারা স্টক ‘ছাড়ে’ কিনতে চান এবং আশা করেন যে শেষ পর্যন্ত তাদের দাম বেড়ে অন্তর্নিহিত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক কী?
মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক হলো এমন স্টক, যা তার অন্তর্নিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ট্রেড হচ্ছে। এটি বিভিন্ন কারণের সমন্বয়ে ঘটতে পারে:
- নেতিবাচক মার্কেট মনোভাব: কখনও কখনও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশ্বব্যাপী ঘটনা, বা মার্কেটে সামগ্রিক মন্দার কারণে মার্কেটের সামগ্রিক মনোভাব খারাপ হয়ে যেতে পারে। এতে ট্রেডাররা তড়িঘড়ি করে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারেন।
- নিরাশাজনক আয়: কোনো কোম্পানির আয় বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রত্যাশার মতো ভালো না হলে ট্রেডারদের আস্থা কমে যেতে পারে।
- শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ: নির্দিষ্ট শিল্পখাতে নতুন প্রযুক্তি বা নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের মতো বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এতে সেই খাতের সব স্টকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
- খবরে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া: ভালো ও খারাপ, উভয় ধরনের খবরের প্রতিক্রিয়াই কখনও কখনও অতিরিক্ত হতে পারে। এতে সাময়িকভাবে কোনো স্টকের দাম তার প্রকৃত মূল্যের থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
- ভুলভাবে বোঝা মৌলিক ভিত্তি: কখনও কখনও কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যার ফলে ট্রেডাররা সেটির মূল্যায়ন ভুল করেন।
- সীমিত তথ্য: পর্যাপ্ত তথ্য বা স্বচ্ছতার অভাবে ট্রেডাররা প্রকৃত চিত্র দেখতে নাও পারেন, ফলে ভুল মূল্যায়ন হতে পারে।
- স্বল্পমেয়াদি উদ্বেগ: আইনি বিরোধ বা ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো সাময়িকভাবে ট্রেডারদের অস্থির করে তুলতে পারে, যতক্ষণ না সমস্যাগুলো সমাধান হয়।
- ট্রেডারের আচরণ: বিভিন্ন পক্ষপাত, আতঙ্কে বিক্রি, বা সঠিক বিশ্লেষণ ছাড়া ট্রেন্ড অনুসরণ করা ট্রেডারদের মধ্যে অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
- লুকানো রত্ন: কিছু কোম্পানি, বিশেষ করে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত কিন্তু শক্তিশালী মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি, মার্কেটে প্রাপ্য মনোযোগ নাও পেতে পারে।
মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক কীভাবে খুঁজবেন
নিচে উল্লেখিত নয়টি প্রধান আর্থিক সূচক আপনাকে মার্কেটে মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে, কারণ এগুলো কোনো কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ও সাফল্যের সম্ভাবনা প্রকাশ করে।
1. প্রাইস-টু-আর্নিংস রেশিও (P/E) কোম্পানির স্টক মূল্যকে তার প্রতি শেয়ার আয় (EPS)-এর সঙ্গে তুলনা করে। এটিকে এমন একটি উপায় হিসেবে ভাবতে পারেন, যা দেখায় মার্কেট কোম্পানিটির অর্থ উপার্জনের ক্ষমতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে। তুলনামূলকভাবে কম P/E রেশিও, বিশেষ করে একই শিল্পখাতের অন্য কোম্পানিগুলোর তুলনায় বা কোম্পানিটির নিজস্ব অতীতের সংখ্যার তুলনায়, ইঙ্গিত দিতে পারে যে স্টকটি মূল্যায়নের তুলনায় কম দামে আছে।

2. আর্নিংস ইয়েল্ড হলো P/E-এর উল্টো মান। স্টক মূল্যকে আয়ের সঙ্গে তুলনা করার বদলে, এটি দেখায় আপনি স্টকে প্রতি ডলার বিনিয়োগ করলে কত আয় পাচ্ছেন। বেশি আর্নিংস ইয়েল্ড ইঙ্গিত দেয় যে স্টকটি মূল্যায়নের তুলনায় কম দামে থাকতে পারে, কারণ ট্রেডাররা তাদের মূলধনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি রিটার্ন পেতে পারেন।

3. প্রাইস-আর্নিংস টু গ্রোথ রেশিও (PEG) কোনো কোম্পানির P/E রেশিওকে তার আয় বৃদ্ধির হারের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিবেচনা করে। 1-এর নিচে PEG রেশিও নির্দেশ করতে পারে যে স্টকটি তার আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনার তুলনায় মূল্যায়নের কম, যা বোঝায় যে মার্কেট এখনও এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি।

4. ডেট-টু-ইকুইটি রেশিও (D/E) কোনো কোম্পানির মোট ঋণকে শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির সঙ্গে তুলনা করে তার আর্থিক লিভারেজ মূল্যায়ন করে। কম D/E রেশিও কম আর্থিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যা বোঝায় যে কোম্পানিটি ধার করা তহবিলের ওপর কম নির্ভরশীল। অনুকূল D/E রেশিও স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে।

5. কারেন্ট রেশিও কোনো কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি লিকুইডিটি মূল্যায়ন করে। এটির জন্য এটি তুলনা করে কোম্পানির কাছে কী আছে (তার চলতি সম্পদ) এবং তার কী দিতে হবে (তার চলতি দায়) এর সঙ্গে। উচ্চ কারেন্ট রেশিও-সহ মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক দেখায় যে কোম্পানিটি স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধে যথেষ্ট সক্ষম, যা এর সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

6. প্রাইস-টু-বুক রেশিও (P/B) কোম্পানির স্টক মূল্যকে তার প্রতি শেয়ার বইমূল্যের সঙ্গে তুলনা করে। বইমূল্য বলতে বোঝায় দায় বাদ দেওয়ার পর কোম্পানির সম্পদের নিট মূল্য। 1-এর নিচে P/B রেশিও মানে হতে পারে যে স্টকটি তার বইমূল্যের নিচে মূল্য নির্ধারিত।

7. রিটার্ন অন ইকুইটি (ROE) শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি থেকে লাভ তৈরিতে কোম্পানির দক্ষতা পরিমাপ করে। উচ্চ ROE প্রায়ই কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী রিটার্ন তৈরির সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। কোনো স্টকের ROE যদি উচ্চ হয় কিন্তু তবুও তা মূল্যায়নের তুলনায় কম দামে থাকে, তবে তার অর্থ হতে পারে মার্কেট কোম্পানিটির আয়ের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি।

8. ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড স্টকের দামের তুলনায় বার্ষিক ডিভিডেন্ড আয় গণনা করে। কোনো কোম্পানি যদি তার শেয়ারের দাম কম থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিতে পারে, তবে তা একটি ভালো লক্ষণ যে কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি মজবুত। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে: যদি কোম্পানিটি এই ডিভিডেন্ড দিতে তার আয়ের বড় অংশ ব্যয় করে, তাহলে ব্যবসা প্রসারিত বা ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নগদ তার হাতে নাও থাকতে পারে।

9. আর্থিক বিবৃতি যেমন আয় বিবৃতি, ব্যালেন্স শিট, এবং আয় প্রতিবেদন, কোম্পানির আর্থিক শক্তি এবং ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা সম্পর্কে আপনাকে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কোম্পানির ভবিষ্যতে বেশি আয়ের আশা করা হয় (আনুমানিক রাজস্ব বৃদ্ধি) কিন্তু মার্কেট এখনও তা বুঝতে পারেনি, তাহলে স্টকটি মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের হতে পারে, যা এটিকে একটি আকর্ষণীয় সুযোগে পরিণত করে।

মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক কীভাবে ট্রেড করবেন
মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক ট্রেড করার জন্য কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে নিচের কিছু পরামর্শ কাজে লাগাতে পারেন।
- মৌলিক ভিত্তি মূল্যায়ন করুন: মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক এবং দুর্বল মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন স্টকের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ‘ভ্যালু ট্র্যাপ’-এ না পড়েন, যেখানে স্টকের দাম কমই থাকে বা আরও কমে যায়। প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক সঠিকভাবে শনাক্ত করতে ট্রেডাররা উপরোক্ত মৌলিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
- প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তুলনা করুন: প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কোনো স্টকের মৌলিক ভিত্তি মূল্যায়ন করলেও মূল্যবান প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়। যদি উপরোক্ত মেট্রিক ব্যবহার করে কোনো স্টক তার শিল্পখাতের সমকক্ষদের তুলনায় মূল্যায়নের কম বলে মনে হয়, তাহলে তা অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে।
- একটি ট্রেডিং পরিকল্পনা তৈরি করুন: আপনার এন্ট্রি ও এক্সিটের সময় নির্ধারণে সাহায্য করতে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল চিহ্নিত করুন। মুভিং অ্যাভারেজ, অতীতের ট্রেডিং রেঞ্জ, এবং ভলিউম প্যাটার্ন দেখুন, যাতে স্টকটি তার অন্তর্নিহিত মূল্যের নিচে ট্রেড হলে আদর্শ কেনার পয়েন্ট নির্ধারণ করা যায়। যে কোনো ট্রেডে নিচের দিকের ঝুঁকি সীমিত করতে আপনি স্টপ-লস ব্যবহার করতে পারেন। কী কাজ করেছে আর কী করেনি, তা মূল্যায়ন করতে অবশ্যই আপনার ট্রেডগুলো ট্র্যাক করুন। সময়ের সঙ্গে উন্নতি করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করুন। মনে রাখার মতো একটি বিষয় হলো, মূল্যায়নের এই পার্থক্য ঠিক হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
অন্ধভাবে সস্তা স্টকের পেছনে ছোটা ক্ষতির কারণ হতে পারে। মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক ট্রেড করার আগে, ট্রেডারদের উচিত ভিত্তিমূলক তথ্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখা, যা যথাযথ গবেষণা দিয়ে সমর্থিত থাকবে, যাতে তারা তথ্যভিত্তিক ও কৌশলগত ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এই পরামর্শগুলো কাজে লাগান এবং Deriv-এর স্টক অফারিংসের পোর্টফোলিও থেকে মূল্যায়নের তুলনায় কম দামের স্টক চিহ্নিত করুন। একটি ডেমো ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলুন, যেখানে ভার্চুয়াল ফান্ড থাকবে, যাতে আপনি বাস্তব অর্থ দিয়ে ট্রেড করার আগে ঝুঁকিমুক্তভাবে স্টক মার্কেট নেভিগেট করার অনুশীলন করতে পারেন।